ঢাকা শনিবার , ২০ জুলাই , ২০২৪ ,  ৫ আষাঢ় ১৪২৯

শেখ রাসেলের ৫৯ তম জন্মদিন আজ

বঙ্গরুপ টেলিভিশন প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর , ২০২২ , ১২:০৯ পিএম

শেয়ার করুনঃ
News Thumbnail

আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৯ তম জন্মদিন আজ।১৯৬৪ সালের ১৮ই অক্টোবর ঢাকার ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের গর্ভে তার জন্ম হয়।বাবা আদর করেই তার নামটি রেখেছিলেন রাসেল।তার আচরণ-চলাফেরায় সদা সর্বদা প্রাণবন্ত হয়ে থাকতো পুরো বঙ্গবন্ধু ভবনটি। শুধু ধানমন্ডির বাড়ীতেই নয়,ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুলে তার সহপাঠীরাসহ স্কুলের সকল শিক্ষকরাও তার ব্যবহারে আকৃষ্ট হয়ে যতো। পিতার রাজনৈতিক পরিমন্ডলেও সহজেই সবার মন কেড়ে নিতো শিশু শেখ রাসেল। যেমনটি অনেক শিশুর বেলায় দেখা যায়নি। ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর যে ভবনটিতে তার জন্ম হয়েছিলে মাত্র দশ বছর বয়সে সেখানেই তাকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাংলার বেঈমান ষড়যন্ত্রকারীরা জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বাংলার আবাল বৃদ্ধ বণিতার কাছে আজ রাসেল এক স্পর্শকাতর নাম। বাংলাদেশের মানুষ যতোনা আপসোস করে- যতোনা মর্মাহত হয় স্বাধীনতায় প্রাণ দেয়া অগনিত মানুষদের ত্যাগ-তিতীক্ষায়, তার চেয়েও অধিক মর্মাহত হয় এই শিশু রাসেলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এবং আপসোস করে এক বাক্যে বলে থাকে, রাসেলকে কেনো ওরা হত্যা করলে। সব কিছু মেনেও যেনো রাসেলের মর্মান্তিক মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেনা কেউ। আর মানবেই বা কিভবে? মানার তো কথা নয়! সেদিন ঘাতকদের সাথে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরাতো পরবর্তীতে বলে গেছে,বাবা-মা'র রক্তাক্ত দেহ দেখে রাসেল যখন মা মা বলে চিৎকার দিয়ে উঠছিলো,তখনই তো ঘাতকরা তাকে মেরে ফেললো। এটাতো শুধুই মৃত্যু নয় মর্মান্তিক এক আর্তনাদ!প্রসঙ্গক্রমে বলাই যায়,রাসেলের সেইদিনের সেই আর্তনাদ-চিৎকার স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাকেও মনে হয় সাড়া জাগিয়েছিলো।যে কারনেই মহান আল্লাহ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়ে তার মাধ্যমে ঘাতকদের ফাঁসির রায় কর্যকর করা হয়েছে।  অন্যদিকে আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়, রাসেলের মৃত্যুতে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে আবেগে আপ্লূত হয়েছিলো তার প্রমান ৭৫ এর ১৫ ই আগস্ট শিশু রাসেলকে মর্মান্তিকভাবে হত্যার পর এদেশের লাখো লাখো বাবা-মা তাদের নবজাতক শিশু-সন্তানদের নাম "রাসেল" রেখে তাকে উৎসর্গ করেছিলো। পৃথিবীতে মানব সভ্যতায় এমন কিছু বিষয় মানব মনে অঙ্কিত হয়ে থাকে যা কখনো ভুলেনা-ভুলাও যায়না। তাই এসব স্পর্শকাতর আবেগ গুলোর  মধ্যে যেগুলো মানুষের হৃদয়ের  মধ্যে স্থান করে নেয় তা কখনো আড়াল হয় না। তেমনি এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় তুলে ধরা যায়, পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে তাঁর অতি বিশ্বস্ত মীরজাফর বেঈমানী করে যেভাবে তাকে পরাস্ত করে হত্যা করলো সেই বেঈমানীর আবেগ মানুষের মধ্যে অদ্যাবধী জাগ্রত রয়েছে। যেকারনে আজো কোন বাবা-মা তাদের শিশু সন্তানকে মীরজাফর নাম দিয়ে আখ্যায়িত করে না। যুগে যুগে যারা এসব বিষাদময় ঘটনা ঘটায়,ওইসব শিকার-শিকারীকে আজীবন  আবেগের সাথেই গ্রহণ-বর্জন করে থাকেন।আজ বাংলাদেশের মানুষ যথাযথ ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর ১৮ই অক্টোবর শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষ্যে পালন করছে "শেখ রাসেল দিবস"। শেখ রাসেল দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, " শেখ রাসেল নির্মলতার প্রতীক,দুরন্ত প্রাণবন্ত নির্ভীক"। শেখ রাসেলের এই মর্মান্তিক মৃত্যু পৃথিবীতে আসলেই বিরল। আমরা আশা করছি, আজকের এই ১৮ই অক্টোবর হয়তো একদিন বিশ্ববাসীও পালন করবে আন্তর্জাতিক শেখ রাসেল দিবস হিসেবে।
 

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা/এমবুইউ
শেয়ার করুনঃ

এই বিভাগের আরোও খবর

  • ৫ দিনের রিমান্ডে ফারদিনের বান্ধবী বুশরা
    ৫ দিনের রিমান্ডে ফারদিনের বান্ধবী বুশরা
  • জঙ্গিবাদে জড়িয়ে অনুশোচনায় কাঁদলেন কেবিন ক্রু, কাঁদালেন সবাইকে
    জঙ্গিবাদে জড়িয়ে অনুশোচনায় কাঁদলেন কেবিন ক্রু, কাঁদালেন সবাইকে
  • ডলারের চাপে নাস্তানাবুদ অর্থনীতি
    ডলারের চাপে নাস্তানাবুদ অর্থনীতি
  • শেখ রাসেলের ৫৯ তম জন্মদিন আজ
    শেখ রাসেলের ৫৯ তম জন্মদিন আজ
Logo